Hollywood

রোমাঞ্চে ভরপুর অ্যাভেঞ্জার্স

Written by Moviendrama Team

পর্দায় তখন ক্যামেরার সামনে–পেছনে কাজ করা হাজারখানেক কলাকুশলীর নাম উঠতে শুরু করেছে, সিনেমা হলের বাতি জ্বলে উঠেছে। অধিকাংশ দর্শক তখনো ঠায় বসে আছেন। বসেই আছেন। কারও মধ্যে নড়নচড়ন নেই। প্রথমত, ঘোর তখনো কাটেনি। দ্বিতীয়ত, মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স গত ১১ বছর মিড ক্রেডিট বা পোস্ট ক্রেডিট সিন (নাম ওঠার মাঝামাঝি সময়ে, কিংবা শেষে কয়েক সেকেন্ডের একটি ক্লিপ, যাতে সাধারণত পরবর্তী ছবির আভাস থাকে) দেখিয়ে ভক্তদের এতটাই অভ্যস্ত করে ফেলেছে, কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে এরপর আর কিছু নেই।

শেষ! সত্যিই শেষ? আয়রন ম্যান (রবার্ট ডাউনি জুনিয়র), থর (ক্রিস হেমসওর্থ), হাল্ক (মার্ক রাফেলো), ক্যাপ্টেন আমেরিকা (ক্রিস ইভানস), ব্ল্যাক উইডো (স্কারলেট জোহানসন), ব্ল্যাক প্যানথার (শ্যাডউইক বোসম্যান), স্পাইডার–ম্যান (টম হল্যান্ড), ডক্টর স্ট্রেঞ্জ (বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ), স্কারলেট উইচ (এলিজাবেথ অলসেন), স্টার লর্ড (ক্রিস প্র্যাট), হকআই (জেরেমি রেনার), ক্যাপ্টেন মার্ভেল (ব্রি লারসন)—মার্ভেলের এই প্রিয় অতিমানবেরা আর কখনো সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবে না? আর কোনো জাগতিক বা মহাজাগতিক শত্রুকে ‘ভেঙেচুরে, চুরেভেঙে, গুঁড়ো গুঁড়ো’ করবে না?
ছবি শেষ। পর্দায় তখন ক্যামেরার সামনে–পেছনে কাজ করা হাজারখানেক কলাকুশলীর নাম উঠতে শুরু করেছে, সিনেমা হলের বাতি জ্বলে উঠেছে। অধিকাংশ দর্শক তখনো ঠায় বসে আছেন। বসেই আছেন। কারও মধ্যে নড়নচড়ন নেই। প্রথমত, ঘোর তখনো কাটেনি। দ্বিতীয়ত, মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স গত ১১ বছর মিড ক্রেডিট বা পোস্ট ক্রেডিট সিন (নাম ওঠার মাঝামাঝি সময়ে, কিংবা শেষে কয়েক সেকেন্ডের একটি ক্লিপ, যাতে সাধারণত পরবর্তী ছবির আভাস থাকে) দেখিয়ে ভক্তদের এতটাই অভ্যস্ত করে ফেলেছে, কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে এরপর আর কিছু নেই।

শেষ! সত্যিই শেষ? আয়রন ম্যান (রবার্ট ডাউনি জুনিয়র), থর (ক্রিস হেমসওর্থ), হাল্ক (মার্ক রাফেলো), ক্যাপ্টেন আমেরিকা (ক্রিস ইভানস), ব্ল্যাক উইডো (স্কারলেট জোহানসন), ব্ল্যাক প্যানথার (শ্যাডউইক বোসম্যান), স্পাইডার–ম্যান (টম হল্যান্ড), ডক্টর স্ট্রেঞ্জ (বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ), স্কারলেট উইচ (এলিজাবেথ অলসেন), স্টার লর্ড (ক্রিস প্র্যাট), হকআই (জেরেমি রেনার), ক্যাপ্টেন মার্ভেল (ব্রি লারসন)—মার্ভেলের এই প্রিয় অতিমানবেরা আর কখনো সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবে না? আর কোনো জাগতিক বা মহাজাগতিক শত্রুকে ‘ভেঙেচুরে, চুরেভেঙে, গুঁড়ো গুঁড়ো’ করবে না?

ভিলেন থানোসের এক তুড়িতে হাওয়া হয়ে গিয়েছিল পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ। সুপারহিরোরাও পুরো শক্তির দলের বদলে ‘এ’ দল নিয়ে শুরু করেছিল শেষ খেলা। তবু সংলাপ ও কাহিনিজুড়ে মার্ভেল তার সহজাত হাস্যরস ধরে রেখেছে। দর্শক হেসে উঠেছে হো হো করে। পড়েছে মুহুর্মুহু করতালি। ছবির শেষার্ধে তো এত তালি পড়ল, মনে হচ্ছিল বুঝি কোনো ফুটবল ম্যাচ দেখতে বসেছি!

৩ ঘণ্টা ২ মিনিটের একটি ছবি, এর পটভূমি তৈরি হয়েছে এর আগে ২০টি ছবির মধ্য দিয়ে। যাঁরা আগের ছবিগুলো দেখেননি, তাঁদের কাছে অ্যাভেঞ্জার্স ভক্তদের উন্মাদনা অহেতুক মনে হওয়ারই কথা। কিন্তু সত্যি বলতে, ‘শেষ খেলা’র পুরো মজা পেতে হলে আপনাকে প্রথম খেলা (আয়রন ম্যান, ২০০৮) থেকেই শুরু করতে হবে। যাঁরা এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: জেনে রাখুন, আগের সব কটি ছবি দেখে শেষ করতে আপনার সময় লাগবে ২ হাজার ৬৮৬ মিনিট! ইন্টারনেট ঘেঁটে টুকটাক হোমওয়ার্ক করে আপনি হলে হাজির হতে পারবেন, কিন্তু তাতেও আসলে অনেক কিছুই আপনার কাছে দুর্বোধ্য থেকে যাবে। ছবির এক পর্যায়ে সাদা গোঁফওয়ালা এক বুড়ো ভদ্রলোককে স্রেফ এক ঝলকের জন্য গাড়ি চালাতে দেখে দর্শক যখন হইহই করে উঠবে, আপনি তখন বোকার মতো আশপাশে তাকাবেন। ক্যাপ্টেন আমেরিকার মুখে ‘আই ক্যান ডু দিস অল ডে’ সংলাপ শুনে যখন তুমুল করতালি পড়বে, আপনার রাডারে এর কারণ ধরা পড়বে না।

কে ছিল না এবারের অ্যাভেঞ্জার্সে? গত ১১ বছরে যেই গল্পটা একটু একটু করে দানা বেঁধেছে, তার শেষ অধ্যায়ে এসে হাজিরা দিয়েছে পুরোনো প্রায় সব কটি চরিত্র। এমনকি আয়রন ম্যান ৩ ছবিতে অভিনয় করা সেই বাচ্চা ছেলে, হার্লে কিনারকেও (টাই সিম্পকিনস) দেখতে পাবেন এক ঝলকের জন্য। যাঁরা ছবিতে হার্লে কিনারকে খুঁজে পাননি, চাইলে গুগল করে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন। পুরোটা বলার ‘ঝুঁকি’ নিতে চাই না। তবে জেনে রাখুন, কোনো স্পয়লারই আপনার অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম দেখার আনন্দ নষ্ট করতে পারবে না। এই ছবি রোমাঞ্চে ভরপুর, চমকে ঠাসা!

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of